চিকিৎসা

করোনার বিভিন্ন ধাপের উপসর্গ ও আপনার করণীয়

করোনাভাইরাস মহামারি মানুষের নিত্যকার জীবনকে বদলে দিয়েছে। গত দুই বছর যাবত নানা সময়েই ভাইরাসটির সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঘরবন্দি থাকতে হয়েছে আমাদের। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, দীর্ঘসময় এই ভাইরাসটির সঙ্গে লড়াই করে যেতে হবে আমাদের। এই ভাইরাসের আক্রমণে শরীরে বিভিন্ন ধরণের উপসর্গ দেখা যায়। বিভিন্ন ধাপের উপসর্গগুলো নিয়ে আজকের এই আয়োজন।

সন্দেহভাজন করোনা রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ

  • জ্বর (৯৯ ডিগ্রির নিচে)
  • শুকনা কাশি
  • গলা ব্যাথা
  • ক্লান্তি/দুর্বলতা
  • মাথা ব্যাথা
  • পেশীতে ব্যাথা
  • পাতলা পায়খানা, ডায়রিয়া, বমি
  • মুখে স্বাদ না থাকা
  • নাকে গন্ধ না পাওয়া

সন্দেহভাজন করোনা রোগীর ক্ষেত্রে করণীয়

উপরের উপসর্গসমূহের অন্তত ২টি থাকলে অথবা মুখে স্বাদ বা নাকে গন্ধ না পেলে দ্রুত করোনা পরীক্ষা করুন।

করোনার মৃদু উপসর্গসমূহ

  • জ্বর (৯৯ ডিগ্রির নিচে)
  • শুকনা কাশি
  • গলা ব্যাথা
  • ক্লান্তি/দুর্বলতা
  • মাথা ব্যাথা
  • পেশীতে ব্যাথা
  • পাতলা পায়খানা, ডায়রিয়া, বমি
  • মুখে স্বাদ না থাকা
  • নাকে গন্ধ না পাওয়া

মৃদু উপসর্গের ক্ষেত্রে করণীয়

  • কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী/রোগীর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি ১৪ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকবেন চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়সীমা বেশি বা কম হতে পারে।
  • রোগীকে আলাদা কক্ষ ও আলাদা শৌচাগার ব্যবহার করতে হবে।
  • রোগীর তৈজসপত্র যেমন-থালা, গ্লাস, কাপ ইত্যাদি, তোয়ালে, বিছানার চাদর ইত্যাদি অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যাবেনা।
  • রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • রোগীকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিন-সি যুক্ত ফল যেমনঃ লেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকি প্রভৃতি খেতে হবে।
  • একটি থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
  • যদি নতুন উপসর্গ দেখা দেয় বা আগের উপসর্গের অবনতি হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

করোনার মাঝারি উপসর্গসমূহ

  • পূর্বের উপসর্গের সাথে
  • জ্বর (১০১-১০২ ডিগ্রি)
  • শরীরে শিরশিরে ভাব (নিয়মিত কাঁপুনিসহ)
  • ভারি কাশি
  • শ্বাসকষ্ট (অক্সিজেন সেচুরেশন ৯৪% এর নীচে)
  • ক্লান্তি
  • শরীরে ব্যথা
  • পেশীতে ব্যাথা

মাঝারি উপসর্গের ক্ষেত্রে করণীয়

  • কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী/রোগীর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি ১৪ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকবেন চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়সীমা বেশি বা কম হতে পারে।
  • রোগীকে আলাদা কক্ষ ও আলাদা শৌচাগার ব্যবহার করতে হবে।
  • রোগীর তৈজসপত্র যেমন-থালা, গ্লাস, কাপ ইত্যাদি, তোয়ালে, বিছানার চাদর ইত্যাদি অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যাবেনা।
  • রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • রোগীকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিন-সি যুক্ত ফল যেমনঃ লেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকি প্রভৃতি খেতে হবে।
  • একটি থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
  • পালস অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন স্যাচুরেশন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
  • উপুর হয়ে শোয়া, নিদেন পক্ষে উপুর হতে না পারলে পাশ ফিরে শোয়া।
  • ব্রিদিং এক্সারসাইজ করা।
  • দিনে ২-৪ বার নিঃশ্বাসে গরম পানির ভাপ নেয়া।
  • দিনে অন্তত ২/৩ কাপ গরম মসলা চা খাওয়া।
  • দিনে একবার নাকে কালিজিরা ভিজানো পানির ড্রপ নেয়া।
  • কালিজিরা, রসুন, মধু ইত্যাদি খাওয়া।

করোনার তীব্র উপসর্গসমূহ

পূর্বের উপসর্গের সাথে

  • তীব্র শ্বাসকষ্ট
  • কিছুই খেতে না পারা
  • পানিশূন্য হয়ে পড়া
  • বারবার বমি হতে থাকা
  • অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা/বিভ্রান্তি/অর্ধচেতন/অবচেতন
  • নীলচে চেহারা/ঠোঁট/জিভ
  • চোখে সমস্যা (যেমনঃ চোখ থেকে পানি পড়া, ফোলা চোখ ইত্যাদি)

তীব্র উপসর্গের ক্ষেত্রে করণীয়

রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

পোস্ট কোভিড উপসর্গসমূহ

  • ক্লান্তি
  • নিশ্বাস নিতে কষ্ট
  • স্নায়বিক জটিলতা
  • ঘুমের সমস্যা
  • কথা মনে রাখতে কষ্ট হওয়া/ মনযোগে সমস্যা
  • কাশি
  • পেশীতে ব্যাথা বা মাথা ব্যাথা
  • হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়ে যাওয়া
  • বিষন্নতা/ উদ্বিগ্নতা
  • র‍্যাশ হওয়া
  • চুল পড়া
  • মুখে স্বাদ না থাকা
  • নাকে গন্ধ না পাওয়া

পোস্ট কোভিড উপসর্গের ক্ষেত্রে করণীয়

দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের লক্ষণসমূহ

  • ফোলা জিহবা
  • গলা ব্যাথা
  • বুকে হালকা ব্যাথা
  • পায়ের তালুতে লালচে ভাব
  • চোখ জ্বালাপোড়া
  • ডায়রিয়া
  • হাত ও পায়ের আঙ্গুলের রঙ ফ্যাকাশে হওয়া
  • মুখে ঘা
  • হাতের তালুতে জ্বালাপোড়া
  • চুল পড়া
  • মাথা ব্যাথা
  • রচামড়ায় র‍্যাশ
Facebook Comments

Related Articles

Back to top button