অন্যান্য

ভি আর বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

ভি আর বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হচ্ছে এক ধরণের কম্পিউটার টেকনোলজির ব্যবহার যেটি একটি সিমুলেশন বা সিমুলেটেড অভিজ্ঞতা তৈরি করে।এটি কখনো বাস্তব জগতের সাথে সম্পর্কিত আবার কখনো কখনো বাস্তব জগত থেকে সম্পূর্ণই ভিন্ন হয়। ভি আর সিস্টেমের মাধ্যমে ৩৬০ ডিগ্রি এনভায়রনমেন্ট তৈরি করা হয়। এবং এ যন্ত্রগুলো বাস্তবসম্মত ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্য এবং শব্দ তৈরির জন্য ভি আর হেডসেট ( হেড মাউন্টেড) অথবা মাল্টি প্রজেক্টেড এনভায়রনমেন্ট ব্যবহার করে। এই ভি আর হেডসেট গুলো ব্যবহারকারীকে এমন ধরণের ডিজিটাল ইউজার ইন্টারফেস প্রদান করে যার ফলে ব্যবহারকারী নিজেকে একটি ত্রিমাত্রিক পরিবেশে আবিষ্কার করে এবং সেই পরিবেশের সাথে সমন্বয় সাধন করে যেখানে বাস্তব জগত তার দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। যেটি একটি দ্বিমাত্রিক কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে অনেক বেশি উন্নত অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে এটা কিভাবে কাজ করে?

ছোট্ট একটা উদাহরণ এর মাধ্যমে আমরা বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করব! ধরুণ আপনি ভি আর সিস্টেম ব্যবহার করে একটি পার্কে ঘুরতে যেতে চান। তাই আপনি একটি ভি আর হেডসেট পড়ে নিলেন এবং সাথে সাথে হেডসেটটি আপনার সামনে পার্ক অর্থাৎ একটি ত্রিমাত্রিক জগত উপস্থাপন করল। যেহেতু এই ভি আর সিস্টেমগুলো সাইট ড্রাইভেন (আপনি যা দেখছেন তা আপনার মনে কনফিউশন সৃষ্টি করার একটি উপায়) তাই আপনি বাস্তব জগতের মতো গাছ-গাছালি, বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ও পরিবেশ দেখতে পেলেন। আবার এই সিস্টেমে জিরোস্কোপ(gyroscope) বিল্ড ইন থাকায় আপনি যখন হেডসেটকে উপর-নিচ বা ডানে-বামে করবেন তখন সেই স্ক্রিনও পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ আপনি ৩৬০ ডিগ্রি স্ক্রিন স্বয়ংক্রিয় ভাবে দেখতে পাবেন, তাছাড়া মাইক্রো কন্ট্রোলার এর মাধ্যমে হাত নাড়ানো বা ইশারার অনুভূতি পাবেন সেই সাথে ইমার্সিভ সাউন্ডের মিশ্রণ আপনাকে আপনার বেডরুমে বসেই একটি পার্কে ঘোরার অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

Morton Heilig ১৯৫৭ সালে একটি ভি আর ডিভাইস তৈরি করেন যার নাম ছিল সেনসোরোমা(sensoroma)। সেনসোরোমা ছিল একটি মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস যেটিকে প্রথম ভি আর ডিভাইস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে Jaron lanier ভি আর নিয়ে “Dawn of the New Everything” নামে একটি বই লিখেন যেখানে তিনি ভি আর এর সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।
বর্তমানে অনেক কোম্পানি ভি আর এর উপর ইনভেস্ট করা শুরু করেছে।
কিছু ভি আর ডিভাইস হলোঃ Nintendo Labo(এক ধরণের ভি আর গ্যামিং কিট), Veiw master, HTC Vive, Playstation VR headset, VR lenovo Mirage, Samsung gear vr, VR kit ইত্যাদি। এসব গ্যাজেট সমূহ আমাদেরকে বাস্তব জগতের অনুভূতি সম্পন্ন একটি ডিজিটাল জগতকে উপভোগ করতে সক্ষম করে। অনেকে হয়তো বা উদাহরণ শুনে ভাবতে পারেন এটি গ্যামিং এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটি ইজুকেশন, এন্টারটেইনমেন্ট সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।
যেমনঃ Class VR ইজুকেশন ইন্ডাস্ট্রিতে একটি নতুন কনসেপ্ট। এটি সকল বয়সের শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের ধারণক্ষমতা ও এনগেজমেন্ট বা প্রবৃত্তি বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ক্লাস ভি আর প্রযুক্তিতে ভি আর হেডসেট, সেইসব হেডসেট গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় হেড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থাকে।তাছাড়া কারিকুলাম অনুযায়ী কন্টেন্ট, সিকিউর স্টোরেজ ও চার্জিং সিস্টেম থাকে যার মাধ্যমে এই class vr কাজ করে।

ফেসবুক প্রতিষ্ঠানটি Facebook horizon নামে একটি নতুন আইডিয়া নিয়ে এসেছে যেখানে আপনি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে এক্সপ্লোর করতে পারবেন। আপনার নিজের মত করে সেই জগতকে সাজাতে পারবেন। ফ্রেন্ডদের সাথে কানেক্ট করা, বাস্তবের মত এনভায়রনমেন্ট তৈরি করে একসাথে খেলা ইত্যাদি আর্কষণীয় সব ফিচার রয়েছে সেখানে। বিষয়টি আমার কাছে অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে।

তাছাড়া ভি আর ট্রেনিং, ইজুকেশন, আর্কিটেকচার, রিয়েলস্টেট, স্পোর্টস, টুরিজম সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভি আর প্রত্যক্ষ প্রভাব রাখতে শুরু করেছে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাহায্যে মা কীভাবে মৃত মেয়ের সাথে জন্মদিন পালন করেছিলেন সেই পোস্টটির লিংক নিচে দেয়া হলো।

https://bigganchorcha.com/প্রযুক্তি/218/

Facebook Comments

Related Articles

Back to top button